নোতুন খবর.কম :
মহান স্বাধীনতার স্বর্ণজয়ন্তীর প্রক্কালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে ১৮ ডিসেম্বর বিকাল: ৪ টায় ম্যাক্স মোটেল কনফারেন্স রুমে বিজয়ের পঞ্চাশ বছর “প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি ” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেণ বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক কমরেড এ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, সভা সঞ্চালনা করেণ বাসদ বগুড়া জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল। মতবিনিময় সভায় বগুড়ার বিশিষ্ঠ সুধীজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল হক দুলু, বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিপিবি বগুড়া জেলা সভাপতি কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.রফিকুল ইসলাম লাল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসানা ময়না, সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি, বগুড়া নাট্য দলের সভাপতি মীর্জা আহসানুল হক দুলাল, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নেতা আব্দুল লতিফ পশারী ববি, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পাটি বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম রোম, শিশু নট্যগোষ্ঠির সভাপতি আব্দুল খালেক, বেতার শিল্পী তাপসী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন প্রমূখ
বাসদ বগুড়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভায় কীনোট পেপার পড়ে শুনান বাসদ জেলা সদস্য রাধা রানী বর্মন,আয়োজকদের কী নোটের মাধ্যমে বক্তব্যবের সারসংক্ষেপে বলা হয়- ভাষার উপর আক্রমণ প্রতিরোধ করতে ৫২, শিক্ষার অধিকার সংকুচিত করার প্রতিবাদে ৬২, সংস্কৃতির উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে ৬৫, ৬ দফার লড়াইয়ে ৬৬, সামরিক শাসক আইয়ুবের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থান ৬৯, মানুষের বিপুল অংশগ্রহণে ধ্বস নামানো বিজয় ৭০ এর নির্বাচনে এবং ৭১ এর সশস্ত্র লড়াই ধারাবাহিকভাবে আমাদের আকাংখাকে একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। পাকিস্থান একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র তার বিপরীতে ধর্ম নিরপেক্ষতা, পাকিস্থান সামরিক শাসন দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্র তার বিপরীতে গনতন্ত্র, ব্রিটিশ শোষণ ও পাকিস্থানের ২২ পরিবারের শোষণের বিরুদ্ধে শোষণ মুক্তির আকাংখা থেকে সমাজতন্ত্র আর দীর্ঘদিনের উপনিবেশিক ও পাকিস্থানি প্রায় উপনিবেশিক শাসনের বিপরীতে জাতীয়তাবাদ, এই আকাংখা মূর্ত হয়ে উঠেছিল আমাদের চেতনায়। বলা হয়েছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে আমাদের লক্ষ্য। স্বাধীনতার পর যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যা ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে তার ফলেই শোষণ ও বৈষম্য এত প্রকট রূপ নিয়েছে। একারনেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় নি কিন্তু শোষকদের প্রাপ্তি ঘটেছে ব্যাপক। শোষণ ও লুণ্ঠনকে অব্যাহত রাখতেই নিপীড়ন যেমন বাড়ছে, শোষণকে আড়াল করতে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনাও তেমনি প্রশ্রয় পাচ্ছে। ফলে উন্নয়নের এই প্রবল জোয়ারেও গনতন্ত্র ও নৈতিকতার ভাটার টান মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। পিছন ফিরে তাকালে তাই স্বপ্ন আর প্রতিজ্ঞার কথা মনে পড়ে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় নি, প্রাপ্তি ঘটেনি এ কথা বলাই শুধু যথেষ্ট নয়, অপূর্ণ স্বপ্ন পুরনের সংগ্রামটাও খুব জরুরী। আর যে শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারনে এত বিপুল আত্মত্যাগেও মানুষের মুক্তি এলো না সেই ব্যবস্থা বহাল থাকলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। ৫০ বছরে অর্জিত এই শিক্ষা নিয়ে শোষণ মুক্তির লড়াই অব্যাহত রেখেই আজ মানবিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।