ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যাত্রীবাহী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নীশিতার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েক জন।
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দশজনের মৃত্যু হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ছয় জন মারা যায়। আহত অর্ধশতাধিক যাত্রীকে কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক আরও জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।দুর্ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট ও ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর রেলওয়ে থেকে দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি ছয়জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
নিহতরা হলেন- হবিগঞ্জের ভোল্লার ইয়াছিন (১২), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের পশ্চিম রাবাজগাঁও মুজিবুল রহমান (৫৫), চুনারুঘাটের তিরেরগাঁওয়ের সুজন আহমেদ (২৪), চাঁদপুরের উত্তর বালিয়ার ফারজানা (১৫)। মৌলভীবাজারের জাহেদা খাতুন (৩০), চাঁদপুরের কুসসুম বেগম (৩০), হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের আল-আমিন (৩০), হবিগঞ্জের আনোয়ারপুরের আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২), হবিগঞ্জের বানিচংয়ের আদিবা (২) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সোহামনি (৩)।১০ জনের মরদেহের মধ্যে স্বজনদের কাছে চারটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি শ্যামল কান্তি দাস জানান, আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে আসামাত্রই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুই ট্রেনেরই কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগির নিচে আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধারকাজ চলছে।