নোতুন খবর.কম :
মহান বিজয় দিবস এর ৪৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বগুড়া জেলার উদ্যোগে ‘বিজয়ের কথামালা’ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করে। বগুড়ার উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গনে বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচীর উদ্বোধন ঘোষনা করেন উদ্বোধক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা কমিটির বিপ্লবী সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একটি সুসজ্জিত পতাকা মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।
দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বিজয়ের গান, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র ‘যুদ্ধশিশু’ প্রদর্শন, আলোচনা সভা, গণসঙ্গীত ও আবৃত্তি।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বগুড়া জেলা সংসদের সহ-সভাপতি এ্যাড. লুৎফর রহমানের সভাপতিতে এবং যুবনেতা মিঠুন পালের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুস সোবহান মিন্নু, বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন সাবেক ছাত্রনেতা ড. মকসেদুল হামিদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আমিনুল ফরিদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা দীপক শীল, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি আসলাম খান।
আলোচকরা বলেন স্বাধীনতার ৪৯তম বিজয় দিবস উদর্যাপন করছি কিন্তু এখনও স্বাধীনতার স্বপ্ন সম্পন্নভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বাধীনতার চার মূলনীতি ধর্মনিরেপক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ বীরযোদ্ধাদের জীবন উৎসর্গ ও ২লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা কিন্তু ৪৯ বছর পর এসেও আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল সুফল পাইনি। বক্তারা আরও বলেন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধ এবং ৭২ এর মূল নীতি বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানান।
পতাকা মিছিল শেষে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র ‘যুদ্ধ শিশু’ প্রদর্শন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি পাকিস্তান ও তাদের দোসর মৌলবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘ ৪৯ বছর পরও তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কে ব্যাহত করছে এবং রাজনৈতিক বিভেদ তৈরি করার মাধ্যমে বিশৃংখলা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। পাকিস্তান এখনও তাদের আধিপত্য, অমানবিক নির্যাতন ও নারী, শিশু নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে তাদের নিজ দেশেও বিশেষ করে বালোচ, পাসতুন, সীনধী, কাসমিরিদের মত মুসলিম ভাই বোনদের ওপর। পাকিস্তানি সেনার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা এই অমানবিক আচরণের মাধ্যমে তাদের নিজেদের পকেট ভরে চলেছে। আলোচকবৃন্দরা এই বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি মোঃ সাদ্দাম হোসেন, জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান, সাংগঠনিক সসম্পাদক ছাব্বির আহম্মেদ, কৃষক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার পাল, টিইউসি বগুড়া জেলার সহ সভাপতি মতিয়ার রহমান, উদীচী বগুড়া জেলা সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক খান রনিক, উদীচী নেতা আলী মাহমুদ কচি প্রমুখ। সিপিবি নেতা হরি শংকর সাহা, হাফিজ আহম্মেদ, লিয়াকত আলী, সাবেক ছাত্রনেতা বদিউল আলম প্রমুখ।