ডেস্ক : আসাম সফর বাতিল করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ শুক্রবার গুয়াহাটিতে গিয়ে তার ‘খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমস’ এর উদ্বোধন করার কথা ছিল৷সিএএর বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ তো চলছেই, তার ওপর আসু আগাম হুমকি দিয়ে রেখেছিল, প্রধানমন্ত্রী আসাম এলে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হবে৷ দেখানো হবে কালো পতাকা৷ এরপর অশান্ত আসাম এড়িয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি৷ খবর ডয়চে ভেলের।

সরকারিভাবে সফর বাতিল করার কথা জানানো না হলেও ‘খেলো ইন্ডিয়া গেমস’ এর সিইও অবিনাশ জোশী জানিয়েছেন, তাদের আমন্ত্রণের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি৷ তার সঙ্গে কথা বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ‘অবিনাশ বলেছেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম৷ এখনও পর্যন্ত কোনো জবাব আসেনি৷ বরং ঘরোয়াভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি আসবেন না’৷

গুয়াহাটিতে অগ্রদূত সংবাদপত্রগোষ্ঠী আয়োজিত অনুষ্ঠানেও যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর৷ তাদেরও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মোদি যাবেন না৷

সিএএ পাস হওয়ার পর এই নিয়ে আসামে প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিতীয় সফর বাতিল হলো৷ এর আগে ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর শীর্ষ বৈঠক গুয়াহাটিতে হওয়ার কথা ছিল৷ তখনও বিক্ষোভে উত্তাল আসামে এই বৈঠক করা যায়নি৷ এখনও করা গেল না৷

‘খেলো ইন্ডিয়া’ মোদির পছন্দের প্রকল্প৷ সেখানে না যেতে পারার একটা অস্বস্তি তার থাকবে৷ অসমীয় প্রতিদিনের প্রবীণ সাংবাদিক আশিস গুপ্ত জানিয়েছেন, ‘গত ছয় বছরের মধ্যে এই প্রথম মনে হচ্ছে, মোদি সরকার প্রকৃত চাপের মুখে পড়েছে৷ না হলে আগেও বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলন হয়েছে৷ কিন্তু কখনও প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিল করার মতো ঘটনা ঘটেনি৷ বিক্ষোভকারীরা আসামের মন্ত্রীদেরও যেখানে পারছেন, সেখানেই কালো পতাকা দেখাচ্ছেন৷ এই উত্তেজক পরিস্থিতির জন্যই সফর বাতিল হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।’

সারা দেশে যে কারণে সিএএ নিয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে, আসামে অবশ্য সে জন্য হচ্ছে না৷ এখানে বিক্ষোভের কারণ হলো, আসামের লোক বাদে মূলত ১২ লাখ বাঙালি যদি নাগরিকত্ব পেয়ে যান, তাহলে তো তাদের এনআরসি করার মূল উদ্দেশ্যই বানচাল হবে৷ তাই তারা কিছুতেই সিএএ মানতে রাজি নয়। সেই আসাম আন্দোলনের পর থেকে এতদিন মৃতপ্রায় আসু এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আবার চাঙ্গা হয়ে গিয়েছে৷ এই প্রথমবার আসাম শাসন করতে গিয়ে বিজেপি ব্যাকফুটে।