নোতুন খবর.কম :
খেয়া ঘাট এবং এপার ওপার হওয়ার নদীর পড়ে বটতলা এখন ভুলেই গেছে এ প্রজন্মের মানুষ। কালের বিবর্তনে নদীর উপর হয়েছে সেতু। এখন নদী উপর সেতু হওয়া বাস কিংবা ট্রেন চলে। স্টেশন কিংবা বাস স্ট্যান্ডে থাকে যাত্রী ছাউনী আর আধুনিক সুযোগ সুবিধা। কিন্তু বগুড়া- সিরাজগন্জের নৌ ঘাট কোটি টাকায় সরকার লীজ দিলেও নেই যাত্রী ছাউনী এবং ঘাটে লোকজন আসার কোন সুযোগ সুবিধা। বৃষ্টি, রোদে চলছে নৌ পথে যমুনার চর এবং এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নৌকা পারাপার।
খোজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়া, সিরাজগন্জ জেলার জামতৈল, মানিক দাইর, ধারাবর্ষা, পাকুড়িয়া, ডাকাতমারা, বোহাইল, মাঝিরা, ছোনপচা, শানবান্ধা, সহ অন্যান্য প্রায় ২০টি চর ও এলাকার মানুষদের যাতায়াতের মাধ্যম খেয়া নৌকা। চর এলাকায় নৌকায় পারাপার হয় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ। চরে হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম থাকায় এবং সরকারী অফিস না থাকায় কাজে আসতে হয় চর থেকে। এ ছাড়াও বগুড়া থেকে জামালপুর জেলায় নৌ পথে প্রায় শত কিলোমিটার পথ কম হওয়ায় মাদারগন্জ, তারাকান্দী, সরিষা বাড়ী হয়ে নদী পথে নৌকায় লোক জন কম খরচ এবং কম সময়ে পৌছে যাওয়ায় নদী পথে নৌকাই তাদের কাছে জনপ্রিয় বাহন। অথচ, কোটি টাকা দিয়ে ইজারা নিলেও সেখানে সরকারী ভাবে নেই যাত্রী ছাউনী, টয়লেট এবং যাতায়ত সুবিধা।
বগুড়ার সারিয়াকান্দী, ধুনট উপজেলাট শহরা বাড়ী, সিরাজগন্জ উপজেলার ঢেকুরিয়া খেয়া নৌ ঘাট ঘুড়ে জানা যায় এ সব সমস্যা।
সরিয়াকান্দী খেয়া ঘাটে কথা হলো জামতৈলের রমিছা বেগমের সাথে। তিনি জানালেন, ঘাটের কোন টয়লেট না থাকায় একবার খুবই অসুবিধায় পড়েছিলেন। পরে পাশের এক বাড়ীতে গিয়ে রক্ষা। ধারাবর্ষার আলীম জানালেন, চরে কোন হাট- বাজার না থাকায় এবং অফিস আদালতে স্কুল- কলেজে শিক্ষার্থীদের আসতে খেয়া নৌকা তাদের এক মাত্র ভরসা। কিন্তু যাত্রীদের কোন সুযোগ সুবিধার ব্যাবস্হা নেই। ধুনটের শহরাবাড়ী খেয়া ঘাটেও যাত্রীদের একই অভিযোগ। আবুল কাসেম জানালো, বৃষ্টির সময় তাদের খুবই সমস্যা। যাত্রী ছাউনী নেই। টয়লেট নেই। কাদা – পানি পার হয়ে খেয়া ঘাটে আসতে হয়।
এমন অভিযোগ বানিয়াজানের কালীবাড়ি খেয়া ঘাট সহ সিরাজ গন্জ জেলার ঢেকুরিয়া খেয়া পারাপারের যাত্রীদের।
সারিয়াকান্দী খেয়া ঘাটের ইজারাদার জানান, বাৎসরিক ৭৪ লাখ টাকায় খেয়া ঘাট ইজারা নিয়েছি। বার বার জেলা পরিষদকে বলেও ঘাটের সংস্কার পাইনি। নেই টয়লেট, ঘাট থেকে নৌকায় উঠার সু-ব্যাবস্হা। পানি কমে গেলে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা নিজেকেই করতে হয়। অথচ, এ সব করার কথা জেলা পরিষদের। গত শুস্ক মৌসুমে রাস্তা করতে ৬ লাখ খরচ করেছি। খেয়া ঘাটের দুই পাড়েই যাত্রীদের জন্য সু- ব্যাবস্হা প্রয়োজন।
শহরা বাড়ী খেয়া ঘাটের ইজারাদার হযতর আলী জানান, বর্ষা কালে খেয়া ঘাটে আসতে যাত্রীদের কাদা পানি পাড় হয়ে আসতে হয়। নিজের টাকায় সারা বছর রাস্তা মেরামত করি। ইজারার টাকা থেকেই খেয়া ঘাটের সংস্কার করা উচিত। কিন্তু কিছুই করেনা জেলা পরিষদ। এখানে নেই যাত্রী ছাউনী, নেই টয়লেট ব্যাবস্হা। এবার যাত্রীদের চলাচলে রাস্হা সংস্কারে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যায় হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঢেকুরিয়া খেয়া ঘাটের তত্ত্বাবধায় ময়নুল হাসানেরও একই অভিযোগ।
বগুড়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুর রহমান দুলু জানান, টয়লেট, যাত্রী ছাউনী এবং অন্যান্য অসুবিধার কথা কোন খেয়া ঘাট ইজাদার জানাননি। জানালে ব্যাবস্হা করা হবে।