ডেস্ক :
রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা পুরনো। আর চীনের সঙ্গে ১৯৯০ সালের পর থেকে ওয়াশিংটনের শত্রুতা শুরু। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ তিনটির মধ্যে বিরোধ স্পষ্টভাবে প্রকট হয়ে উঠেছে। যার রেশ দেখা গেছে চলমান জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনেও।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিরোধ স্পষ্টভাবে প্রকট হয়ে উঠার কারণে মহামারি করোনাভাইরাস রোধে আন্তর্জাতিক যে সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন তা হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বছর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এবারের মূল প্রতিপাদ্য মহামারির হুমকি মোকাবেলা করা।

এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, উচ্চ ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই মহামারি দেখা দিয়েছে। এই মহামারি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি পরীক্ষা ছিল। কিন্তু আমরা সেই পরীক্ষাতে ব্যর্থ হয়েছি।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে বড় দেশগুলোর উচিত, মানবজাতির ভবিষ্যতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া। তাই যুদ্ধের মানসিকতা আদর্শগত পক্ষপাতিত্বকে পরিত্যাগ করে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে একযোগে একত্রিত হয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে কয়েকটি জাতির মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। আর বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নিজেদের সমস্যা অন্যদের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম তিনি উল্লেখ করেননি।

অন্যদিকে, চীনকে দোষারোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত বছরের শেষ দিকে ভাইরাসটির উৎপত্তি হওয়ার পরই দেশটির উচিত ছিল সীমান্ত বন্ধ করা। কিন্তু মনে রাখবেন, চীন এটিকে বিশ্বব্যাপী ছড়াতে দিয়েছে। অথচ চীনে কোভিড -১৯ রোগীর মোট সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, জাতিসংঘকে অবশ্যই চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বেইজিংকে এর জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে। তিনি এটাও বলেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কার্যত চীন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।