ডেস্ক :
সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ৫৫ বছরের বেশি বয়সিরা যুবলীগের নেতা হতে পারবেন না। বয়সের বাধ্য বাধকতা আর ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত আগের কমিটির অনেকেই সহ সব মিলিয়ে আগের কমিটির ৭৩ জন বাদ পড়ছেন যুবলীগ থেকে।

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন হামলা-মামলা, টেন্ডারবাজি ও কমিটি বাণিজ্যের কারণে গত বছর বেশ আলোচনায় আসলে ভেঙে দেওয়া হয় যুবলীগের কমিটি। এরপর ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনের চেয়ারম্যান করা হয় যার হাত দিয়ে গড়ে উঠেছিল যুবলীগ সেই শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে । একই সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মাইনুল হোসেন খান নিখিল। সম্মেলনের পর ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি তালিকা চূড়ান্ত করে যুবলীগের শীর্ষ দুই নেতা সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিতে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিটির পরিধি বড় করা, বিতর্কিত কাউকে না রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে ১৭১ সদস্যের কমিটির খসড়া তালিকা প্রণয়নে অধিকতর যাচাই বাছাই করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কাছে জমা দেবেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, ক্যাসিনোসহ অন্যান্য কালিমা মুছে মূল আদর্শে ফিরতে চায় যুবলীগ। আর সে উদ্দেশ্যেই পরিচ্ছন্ন ইমেজের দক্ষ ও অভিজ্ঞ তরুণেরা এবার কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা হতে যাচ্ছেন। জেলা পর্যায়ের জনপ্রিয় কয়েক জনকেও নিয়ে আসা হচ্ছে কেন্দ্রে। ২০টি পদ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আকার হচ্ছে ১৭১ সদস্যের। সাংগঠনিক জরিপ রিপোর্ট, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন—সবকিছু খতিয়ে দেখেই প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেবেন। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় পদপ্রত্যাশীদের বায়োডাটা যাচাইবাছাই সম্পন্ন করেছেন দায়িত্বশীল নেতারা। এদিকে যে কোনো সময় কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ সারা দেশে যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ সব শাখা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রেও থাকবে শুদ্ধি অভিযান। জেলা-উপজেলা শাখা থেকে বাদ পড়বেন মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত, চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ এবং মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতনকারীরা।

সূত্র জানায়, এবার যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্যসংখ্যা ২৬ থেকে বাড়িয়ে ২৮ করা হচ্ছে। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ একটি বেড়ে পাঁচ থেকে ছয় জন হচ্ছে। ২০টি সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যপদ ছিল গত কমিটিতে। বর্তমানে এটি বেড়ে ২২টি হচ্ছে। সদস্যপদেও ব্যাপক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। এবার অনেক সিনিয়ররা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

জানা গেছে, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার যুবলীগের কমিটিতে চমক থাকবে। দেশব্যাপী জনপ্রিয় বেশ কয়েক জনকে এবার দেখা যাবে। জেলা যুবলীগের সফল নেতারাও কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন। ছাত্রলীগের সাবেক ত্যাগী নেতারাও যুবলীগের কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সফল নেতারাও এই তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। ই.ফা