ডেস্ক : তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে রাজাকারের বিতর্কিত তালিকা স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। সংশোধন করে পরবর্তী তালিকা ২৬ মার্চ প্রকাশ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিজয় দিবসের আগে ১৫ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রথম দফায় ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের নাম প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এই তালিকায় গেজেটভুক্ত বহু মুক্তিযোদ্ধার নামও যুক্ত করা হয়। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর নামসহ একাত্তরে রণাঙ্গনে যুদ্ধে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের।এছাড়া তিনি জানান, প্রকাশিত তালিকাটি রাজাকারদের নয়, এটি দালাল আইনে অভিযুক্তদের তালিকা।এরপরই প্রকাশের তিনদিনের মাথায় রাজাকারের এই বিতর্কিত তালিকা স্থগিত করল মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়।

প্রথম দফায় এই তালিকা প্রকাশের পর বরিশাল, বরগুনা, রাজশাহী, বগুড়া ও ঝালকাঠি জেলার মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও একাত্তরের আওয়ামী লীগ নেতাদের কয়েকজনের নাম দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ কর্মসূচিও দেওয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধারা এসব ভুল দ্রুত সংশোধন করে নতুন তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। আর এই ভুলের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম।

রাজাকারের এই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাখার পাশাপাশি বাদ দেয়া হয় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের নাম। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রসিকিউশনে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর নাম নেই এই তালিকায়। অথচ যুদ্ধাপরাধ প্রমাণ হওয়ায় বিএনপির তৎকালীন স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২০১৫ সালের নভেম্বরে।এই তালিকা প্রকাশের পরই তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

এ নিয়ে বুধবার সকালে রাজধানীতে দলীয় এক যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে ভুল সংশোধন করে রাজাকারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।