সুদর্শন কর্মকার ঃ
নওগাঁর রাণীনগরে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ধান লাগাতে শুরু করেছে চাষীরা। বন্যার পানি জমি থেকে তাড়াতাড়ি নেমে যাওয়ায় কৃষকরা অলস সময় নষ্ট না করে কিছুটা আগেই ইরি চাষের জন্য জমি তৈরি করে ধান লাগানো শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ৮টি ইউনিয়নের ৩শ’ হেক্টর জমিতে ধান লাগানো হয়েছে। দ্রুত গতিতে নিজ নিজ জমিতে আগে ধান লাগানোর জন্য প্রতিযেগিতা মূলক ব্যস্ত সময় পার করছে উপজেলার কৃষকরা। গত আমন মৌসুমে বুক ভরা আশা নিয়ে রোপা-আমন ধানের চাষ করলেও বন্যয় অধিকাংশ
আমন ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় সে আশা কৃষকদের পূরণ হয়নি। সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে কিছুটা আগেই চাষিরা ধান লাগানো শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি আফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পরিমাণ জমিতে ধান রোপণের জন্য প্রায় ৯শ” হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়। আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে রোগবালাই ছাড়া চারা ভালো হয়েছে। বন্যার পানি দ্রুত গতিতে নেমে যাওয়ায় ইরি চাষের জন্য জমি উপযোগী হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই মাঠের পর মাঠ জুড়ে কৃষরা শুধু ইরি ধান রোপণের কাজে ঝুঁকে পড়ছে।
উপজেলার মিরাট ইউপির হরিশপুর গ্রামের আনিছার ফারাজি, আব্দুল হামিদ আবুল হোসেনসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, ইরি ধান লাগানোর উপযোগী আবহাওয়া থাকায় আমরা সুযোগ বুঝে জমিতে ধান লাগানো শুরু করেছি।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে এই উপজেলায় প্রয় ১৮ হাজার ২০০হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবার লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ ধান লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যার পানি আগাম নেমে যাওয়ার ফলে চাষীরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ ক্রমে আগেই বীজতলা তৈরি করে মান সম্পন্ন চারা প্রস্তুত করেছে। সুশম সার, আধুনিক পদ্ধুতিতে লাইন করে ধান লাগানো, নিবির পরিচর্যা ও যথা সময়ে রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগের জন্য আমার দপ্তর থেকে আমিসহ মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিদিনই সময় উপযোগী পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।