ডেস্ক : এটাইকি মানবতা। শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে স্টেশনে ফেলে রেখে গেলেন ছেলে ও তার স্ত্রী। রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেলস্টেশন থেকে এমনই এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। এসময় তার গায়ে গরম পোশাক না থাকায় শীতে কাঁপতে থাকেন। অসহায় এই বৃদ্ধা তার পরিবার-পরিজনের পরিচয় না বলতে পারায় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন দুই পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলাম ও নুরনবী। পরে চিকিৎসার জন্য রবিবার রাতে তাকে ভর্তি করা হয় গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার পরিবারের কোনো খোঁজ মেলেনি।
থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ দিন আগে শতবর্ষী এ মাকে কনকনে শীতের মধ্যে স্টেশনে ফেলে গেছে তার ছেলে ও ছেলের বউ। কঙ্কালসার শরীর নিয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত প্ল্যাটফর্মে পড়েছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই সপ্তাহ আগে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে ভ্যানে করে নিয়ে এসে রাতের অন্ধকারে রহনপুর স্টেশনের ভাঙ্গা একটি চালার নিচে এই বৃদ্ধাকে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। কষ্ট সহ্য করতে না পেরেই আমি এগিয়ে পাশের আরো একটি ছাউনি নিচে রেখে খাবার, শীতের পোশাক, চিকিৎসা ও ওষুুধের ব্যবস্থা করে দেই।

ডিএসবির পুলিশ সদস্য নুরনবী বলেন, শতবর্ষী বৃদ্ধাকে স্টেশনের প্লাটফর্মে গিয়ে দেখে আমার চোখে পানি চলে আসে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

গোমস্তাপুর উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর ওই বৃদ্ধার রক্তচাপ ও পালস অস্বাভাবিক ছিলো। চিকিৎসা পেয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। অপুষ্টি ও অপরিচ্ছন্নতা থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।’

ওই বৃদ্ধার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন রহনপুর পৌরসভার মেয়র তারিক আহম্মদ। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। মাকে এভাবে ফেলে যাওয়ার মতো জঘন্য কাজ কোনো ছেলে করতে পারে জানা ছিল না। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসেছি। শতবর্ষী এ মায়ের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আমি বহন করবো। তার সন্তানকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবো।’