নোতুন খবর.কম : বাউল শিল্পী শরিয়ত বয়াতীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে বগুড়ার বিভিন্ন প্রগতিশলী সংগঠনের নেতারা। এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁর মুক্তির দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের বাউল সমাজ আধ্যাত্মবাদে বিশ^াসী। তাঁরা কোনকালেই কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত দানের ঘটনা বা সমাজে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেননি। এমনকি যে অভিযোগে শরিয়ত বয়াতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনি তাঁর বক্তব্যে কোথাও সেই ধর্ম অবমাননাকর কোন কথা বলেননি। বরং তিনি ধর্মব্যবসার নামে মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি জ্ঞানের যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে ধর্মব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু যে শক্তি এদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নসাৎ করতে তৎপর, যারা সমাজে ধর্মব্যবসাকে জিইয়ে রাখতে চায়, তাদের প্ররোচনায় বাউল শিল্পী শরিয়ত বয়াতদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে; এমনকি পুলিশ অযাচিতভাবে ওই মামলায় তাঁকে রিমা-ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এদেশে বাউল সমাজের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। এই অবস্থা চলমান থাকলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি নড়বড়ে হবে এবং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং মোল্লাতন্ত্র মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠবে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

বিবৃকিততে স্বাক্ষরকারিরা হলেন, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের(বিইউজে) সভাপতি আমজাদ হোসেন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জে এম রউফ, বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক, সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ জুয়েল, উদীচী বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি মাহমুদুস সোবহান মিন্নু, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান কিপ্লব, সংসপ্তক থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল্লাহেল কাফী তারা, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান সুজন, দিন বদরের মঞ্চের সভাপতি ফিরোজ আখতার পলাশ, সাধারণ সম্পাদক অজয় সাহা, জেলা খেলাঘর আসরের আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান রানা, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জেলা শাখার সভাপতি মির্জা আহসানুল হক দুলাল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিবুল হাসান ড্রেক, কণ্ঠ সাধন আবৃত্তি সংসদের আহ্বায়ক শরীফ মজুমদার, সদস্য সচিব রাকিব জুয়েল, থিয়েটার আইডিয়ার পরিচালক নিভা রানী সরকার পূর্ণিমা, টিম ক্রাকড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দেওয়ার মাবুদ আহমেদ, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান আহসানুল কবির ডালিম, বগুড়া জীবনানন্দ পরিষদের সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার কুহেলী, রোড থিয়েটারের সভাপতি আমির খসরু সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ জুয়েল, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুর রহমান ঝিলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ কবির খান পাপ্পু, অদ্রি সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অচিন্ত্য চয়ন, চারণ সাংস্কৃতিক পরিষদ জেলা সংগঠক রাধা রানী বর্মণ, বিহঙ্গ আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি ফজলে রাব্বী ও সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার দাস।

বিবৃতিতে তাঁরা অবিলম্বে বাউল শিল্পী শরিয়ত বয়াতীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন। অন্যথায় এদেশের প্রগতিশীল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগটনের কর্মিরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।