নোতুন খবর.কম :
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা আশেকপুর ইউনিয়নের মাথাইল চাপড় এলাকায় প্রবাসী আবু বক্কর সিদ্দিক (২৭) হত্যা মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য উক্ত হত্যার মামলার ৯ ও ১০ নং আসামীর মা চায়না বেগম মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছে মামলার বাদী সাক্ষীসহ কয়েকজনের নামে শাজাহানপুর থানায়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে ছেলে হত্যার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শাজাহানপুরের মাথইল চাপড় পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহিম আলী প্রাং এর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক এর পিতা মোঃ ইফসুফ আলী প্রাং।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি গত প্রায় ৬ মাসেও আমার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক হত্যার বিচার পাইনি উল্টা এঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে এজাহারভূক্ত দুই আসামীর মা শাজাহানপুর থানায় বাদী সাক্ষীসহ কয়েকজনের নামে মিথ্যা একটি অভিযোগ দায়ের করে রেখেছেন।
আমার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকী আনুমানিক ৬বছর মালয়েশিয়া থেকে ঘটনার কিছু দিন পূর্বে বাড়ীতে আসে। গত ইং ০৩-০৪-২০ তারিখে বিকেলে আমাদের গ্রামে কেরাম বোর্ড খেলাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের শামীম পিতাঃ মৃত বুলু খা ও এখলাস পিতা মৃতঃ আবু হোসেন এর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরবর্তিতে ০৪-০৪-২০ তারিখে ওই ঘটনা আপোষ মিমাংসা করার কথা বলে এখলাসের লোকজন তার বাড়ীতে ডাকে। ওই দিনই বেলা সাড়ে ১১ সময় আমার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক কতিপয় লোকজন নিয়ে টিপু সুলতানের বাড়ীর পশ্বে রাস্তার উপর উপস্থিত হওয়া মাত্র টিপু সুলতানসহ কিছু লোকজন নিয়ে আমার ছেলেকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এপর্যায়ে তারা হাতে থ্কাা দেশীয় অস্ত্র, এসএস পাইপ, লোহার রড নিয়ে আমার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক ও মনিরুজ্জামান ও বাদলের উপর মারপিট করতে থাকে এ পর্যায়ে আমার ছেলে মাটিতে পড়ে গেলে টিপু সুলতান তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে। এসময় টিপু সুলতানের সাথে থাকা লোকজনও তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র, এসএস পাইপ, লোহার রড দিয়ে আমার ছেলে তার সাথে থাকা মনিরুজ্জামন ও বাদলকেও এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এমতাবস্থায় এলাকার লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাবার সময় মামলার ৫নং আসামী আপেল খানকে আটক করে। এসময় আমি আশেপাশে থাকা কয়েকজনের সহযোগিতায় আমার ছেলে ও মনিরুজ্জামন এবং বাদলকে সিএনপি যোগে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় ওইদিনই মারা যায়।
এঘটনায় ওইদিনই আমি বাদী হয়ে শাজাহানুপর থানায় ১নং টিপু সুলতান , ২নং সজিব খান, ৩নং আহাদ, ৪নং, হাবিব, ৫নং, আপেল খান, ৬নং, বাবু, ৭নং, নুরনবী, ৮নং, মিঠুন, ৯নং, পাভেজ খান, ১০নং রাসেল খান, ১১নং কামরুন নাহার রাখি, ১২নং শরিফুল ইসলাম সহ অজ্ঞাত ৫-৬জন আসামী করে মামলা দায়ের করি। এঘটনায় এখনো কোন চার্জসিট হয়নি। উল্টা কিছু আসামী জামিন নিয়ে এসেছে বলে এলাকায় দলবল নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। এদিকে মামলার প্রায় ৬মাস পর গত ২৪-১০ ২০ তারিখে এজাহারভূক্ত আসামী পাভেজ খান, রাসেল খান এর মা চায়না বেগম শাজাহানপুর থানায় মিথ্যা একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে তিনি উক্ত হত্যা মামলার ৪নং সাক্ষী হযরত আলী ( আশেকপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী) সহ ওই সময় গুরুতর আহত মনির ও সাগর কে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করেছে। তিনি উক্ত অভিযোগে আমার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক হত্যা ঘটনাকে পুঁজি করে বানিজ্যে নেমেছে বলে উল্লেখ করেছে। সেখানে তিনি টাকা দেয়নি বলে উক্ত হত্যা মামলায় তার ২সন্তান , পাভেজ খান ও রাসেল খানকে আসামী করেছে বলে উল্লেখ করেছে। চায়না বেগমের এই অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন।আমার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক হত্যা মামলাটি দূর্বল ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তার ২ হত্যাকারি ছেলেকে রক্ষা করতে সাক্ষীর নামে এরকম মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমার মনে হয় এ হত্যা মামলা সঠিক বিচার পাওয়ার পথকে বাধাগ্রস্থ করতে সাক্ষীদের নামে এধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।
উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা, ছেলে হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে এখন আমি ছেলে হত্যার সঠিক বিচার পাবো কিনা তা নিয়েও সংকিত হয়ে পড়েছি। হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামীরা যেভাবে এলাকায় দলবল নিয়ে ঘুরছে তাতে আমিও আমার পরিবারের লোকজন অনেকটা জীবনের ঝুকি নিয়েই থাকতে হচ্ছে। আমি রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি।অনেক সময় রাতে বিরাতে একাএকা বাড়ী ফিরতে হয়। ছেলে হত্যার মামলার আসামীরা কখন আমাকেও শেষ করে দিবে এনিয়েও ভয়ে আছি। তাই আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যেমে আমি আমার পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তাসহ ছেলে হত্যাকারীদের সর্ব্বোচ শাস্তি দাবী করছি ।