মিনহাজুর রহমান হাবিব, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ

শাশুড়ির শতকোটি টাকা আত্মসাৎকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানার বহিষ্কার দাবি করেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নন্দীগ্রাম কলেজপাড়ার শামছুল হকের ছেলে আনোয়ার হোসেন রানা ছাত্রজীবনে জাতীয় ছাত্রসমাজ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলো। সংসারে অভাব-অনাটন থাকায় আনোয়ার হোসেন রানা নন্দীগ্রাম বাঁধন সিনেমা হলের একজন কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছে। ২০০৫ সালে দৈনিক দুর্জয় বাংলা পত্রিকা অফিসে যোগদান করে। দৈনিক দুর্জয় বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব সাইফুল ইসলামের মৃত্যুরপর তার বিধবা স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানা খানমের দিকে নজর দেয় আনোয়ার হোসেন রানা। এরপর ২০০৯ সালে তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র পালিয়ে গিয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা খানমকে বিবাহ করে। বিবাহের কয়েক বছর পর সে স্ত্রীসহ বগুড়ায় ফিরে আসে। আনোয়ার হোসেন রানা তার বয়স্ক শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগমকে ভুলিয়ে ভালিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন সময়ে কৌশল খাটিয়ে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ বিষয়ে গত ১লা অক্টোবর বগুড়া সদর থানায় আনোয়ার হোসেন রানা ও তার স্ত্রীসহ ৫ জনের নামে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করে দেলওয়ারা বেগম। আনোয়ার হোসেন রানা আওয়ামী লীগের পদ-পদবী ব্যবহার করে নানা ধরণের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। যাহা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সে আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত। আনোয়ার হোসেন রানা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বিধাদ্ব›দ্ব সৃষ্টি করেছে। এমনকি ত্যাগী নেতাকর্মীদের নামে মামলা করে। এছাড়াও হামলা-মারপিটসহ নানাভাবে অন্যায় অত্যাচার করে থাকে। তারদ্বারা অনেক সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। সে কারণে আনোয়ার হোসেন রানাকে অবিলম্বে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। তার অবিলম্বে বহিষ্কার দাবি করেছে আওয়ামী লীগ নেতা এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজুর রহমান, সহ-সভাপতি আলী হাসান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন চন্দ্র মহন্ত, মুক্তারিন জাহিদ সরকার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সোহাগ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আশরাফ মামুন, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ রায়হান মানিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু সাঈদ ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।