ডেস্ক : ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিছিল ঠেকাতে ব্যারিকেড দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা উপেক্ষা করে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেধড়ক লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে অনেক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিপেটায় অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ঘটনায় আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ মিছিলটি পুলিশ এমনভাবে ঘিরে রাখে, যাতে তাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এর মধ্যেই পেটে, পিঠে, বুকে ও গোপনাঙ্গে লাঠি দিয়ে চোরাগোপ্তা আঘাত করা হয়েছে। এ থেকে বাদ যাননি নারী শিক্ষার্থীরাও।

মিছিলে বাধা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও পুলিশের দাবি, ছাত্রদের ওপর কোনো ধরনের লাঠিপেটা করা হয়নি। সত্যিই লাঠিপেটা করা হলে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতোক্ষণে ভাইরাল হয়ে যেতো। তবে গোপনাঙ্গসহ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে চোরাগুপ্তা হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দিল্লির কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মুখ খুলতে রাজি হননি।

সম্প্রতি মোদি সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও জাতীয় জনগণনা তালিকার (এনপিআর) বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। দেশটির অন্যান্য স্থানের বিক্ষোভ সরকার দমন করতে সক্ষম হলেও দিল্লির জামিয়ার শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ এখনো অব্যাহত রয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটলেও বিতর্কিত এসব আইন বাতিল না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।