নোতুন খবর.কম :
মাত্র ৭ দিনের মধ্যেই বগুড়া শেরপুরের ক্লুলেস ফরিদুল ইসলাম হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। খুনের সাথে জড়িত নিহতের আপন ভাই, ভাবী, ভাতিজা, চাচা ওশ্যালককে গ্রেফতার করেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে নিজ পরিবারের সদস্যরা ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলামকে (৪৮) বাড়িতেই কুপিয়ে খুন করে। বুধবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা এক প্রেসব্রিফিংএ এতথ্য জানান।

হত্যাকান্ডে জড়িত গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন নিহত ফরিদুলের চাচা আব্দুর রাজ্জাক(৫৮)ছোট ভাই জিয়াউর রহমান জিয়া (৪৫) ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ(২৫),ভাবী শাপলা খাতুন (৩৫) ও শ্যালক ওমর ফারুক (৩৫)।
গত ৫ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৭ টায় শেরপুর থানার ইটালী মধ্যপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নৃশংস ভাবে খুন হন ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম। এঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী ইসমত আরা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের নামে শেরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রেসব্রীফিং এ পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বলেন হত্যাকান্ডের পর পুলিশ কোন ক্লু খুঁজে পাচ্ছিল না। ক্লু নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা যখন চিন্তিত ঠিক সেই সময় গত ৮ জানুয়ারী পুলিশের কাছে একটি অপহরনের তথ্য আসে। নিহত ফরিদুলের শ্যালক ওমর ফারুককে অপহরন করা হয়েছে বলে তার স্ত্রীর কাছে ফোন আসে। পুলিশ অপহৃত ওমর ফারুককে মানিকগঞ্জ থেকে উদ্ধার করার পর জানতে পারেন তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করে অপহরন নাটক সাজিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওমর ফারুক ফরিদুল খুনের ক্লু পুলিশকে জানায়। ওমর ফারুক পুলিশকে আরো জানায়, নিজের দুলাভাইকে খুন করার পর তিনি মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে থাকেন। অপহরন নাটক সাজিয়ে তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। ওমর ফারুকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ অপর চারজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন,গ্রেফতারকৃত আসামীরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, নিহত ফরিদুল তার মা’র সম্পত্তি থেকে ভাইবোনদের বঞ্চিত করেছে। মায়ের মৃত্যুর দুই বছর পর তিনি দলিল বের করে ভাই বোনদেরকে জানান সকল সম্পত্তি তাকে লিখে দেয়া হয়েছে। এনিয়ে পুরো পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও জমি বন্ধক নেয়াকে কেন্দ্র করে তিন লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে শ্যালক ওমর ফারুকের সাথে ফরিদুলের বিরোধ চলছিল। একারনে ওমর ফারুকও ফরিদুলের ভাই ভাতিজাসহ অন্যান্যদের সাথে খুনের পরিকল্পনায় যোগ দেন। গত ২৮ ডিসেম্বর স্ত্রী-সন্তান ঢাকায় যাওয়ায় ফরিদুল বাড়িতে একাই অবস্থান করায় খুনীরা এই সুযোগ কাজে লাগায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ওমর ফারুক চাকু নিয়ে ফরিদুলের বাড়িতে প্রবেশ করে অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে। সন্ধ্যায় ফরিদুল বাড়িতে প্রবেশ করলে ওমর ফারুক তার মাথায় ছুরিকাঘাত করে। এসময় ফরিদুলের চাচা,ভাই ভাবী,ভাতিজা দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ফরিদুলকে ধরে বটি ও চাকু দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারাই পুলিশকে খুনের সংবাদ দেয় এবং ফরিদুলের মরদেহ উদ্ধার এবং দাফন কাফনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, নিহতের শ্যালক ওমর ফারুককে উদ্ধার করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি টীম মাঠে নামেন। মানিকগঞ্জ থেকে তাকে উদ্ধারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদুল হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়। এরপর ১২ জানুয়ারি রাতে অভিযান চালিয়ে জড়িত অপর চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।