নোতুন খবর.কম : গাছকাটার অপরাধ ঢাকতে অপহরনের সাজানো নাটক করে বগুড়ায় এক নিরীহ শিক্ষককে আটক করে জেলে পাঠানো হয়েছে। যারা গাছ কেটেছে তারা এখন ঐ জমি দখল করার পায়তারা করছে।
সরেজমিনে জানা গেছে গোকুলের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মোমিনুল ইসলাম লিটনদের বাড়ির পাশে পলাশবাড়ি এলাকায় বিভিন্ন গাছের একটি বাগান আছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় লিটনের চাচাতো ভাই শিবগঞ্জের এরুলিয়া পাড়ার মোঃ ধলু লোকজন নিয়ে এসে বেশকিছু গাছ কেটে ফেলে। ঐ জমি তাদের বলে দাবি করে। ঘটনাটি জানতে জমির মালিক লিটন তার মামা ও চাচাতো ভাই ছমির উদ্দিন পটলকে নিয়ে ধলুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য তিনজন হোন্ডা নিয়ে রওনা হয়। পথের মধ্যে দেওয়ান তলায় শাহাদতের দোকানের সামনে পটল চা পান খাওয়ায় কথা বলে হোন্ডা থেকে নামে। লিটন তার মামাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার এক পর্যায়ে পটলকে না দেখতে পেয়ে খোঁজা খুজি করে। রাতে খোজাখুজি করে না পেয়ে তারা ব্যাপারটি শিবগঞ্জ থানায় অবহিত করার জন্য যায়। সেখানে ঘটনাটি খুলে বললে পুলিশ তাদেক আটকিয়ে দিয়ে বলে পটল এলে তার পর আপনারা যাবেন। এদিকে লিটনের লোকজন খোজাখুজির এক পর্যায়ে পটলকে আলিয়ার হাটে তার শশ^র বাড়িতে পায়। সেখান থেকে থানায় এসে পটল বলে আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এলাকার একজন আইনজীবীর মদদে পুলিশ অভিযোগটি লুফিয়ে নিয়ে সাথে সাথে একজন নিরীহ শিক্ষক লিটন ও তার মামাকে আটক করে মামলা রুজু করে। এলাকার অনেক লোকজন সাজানো অপহরন নাটকের কথা বললেও অনেকটা জেদ করেই লিটন ও তার মামাকে পরের দিন কোটের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। তার জামিনের আবেদন করেও কোন ফায়দা হয়নি। একটি ঘটনা কতখানি সত্য তা যাচাই বাছাই না করেই থানায় সাহায্য চাইতে আসা একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে এখন জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে। কিছুদিন আগে এলাকায় চেয়ারম্যান তাদের জমি জমার বিরোধ নিয়ে কয়েকবার আলোচনায় বসেছিলেন। তার আগেই এই নাটকগুলো ঘটে গেলো।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার লিটন মাস্টারের একমাত্র অসুস্থ ছেলে মারা যায়। প্যারালে কয়েক ঘন্টা সময় নিয়ে লিটন মাস্টার হাতে পায়ে বেড়ি পরে নিজের ছেলের লাশের সামনে হাজির হয় পুলিশ পাহাড়ায়। এ দৃশ্য দেখে এলাকার ছোটবড় সকলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠে।