ডেস্ক :
সৈকতে বঙ্গবন্ধু তর্জনী উঁচিয়ে আছেন। এর উপরে লেখা হয়েছে- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম আর নিচে লেখা হয়েছে,সাগরের চেয়ে বিশাল তুমি।
এমন চিত্র তুলে ধরা হয় বালু দিয়ে তৈরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে। কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে তৈরি এই ভাস্কর্য সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ‘বালু ভাস্কর্য’ বুধবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সাগর পাড়ের বালিয়াড়িতে ব্রান্ডিং কক্সবাজার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা বালু ভাস্কর্য সৈকতে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য একটি বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সৈকতে বালু ভাস্কর্য ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে চলছে আনন্দ-উৎসব।

কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন দীর্ঘতম সাগর পাড়ে বঙ্গবন্ধুর বালু ভাস্কর্য তৈরির ঘোষণা দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, জাতির পিতার অবমাননা দেশবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বিশ্ব যতদিন থাকবে বাংলাদেশের জাতির পিতার নামও থাকবে ততদিন।

বালু ভাস্কর্য উদ্বোধন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সৈকতের বালিয়াড়িতে এক অনুষ্ঠান হয়। এ সময় কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী, নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, অ্যাডভোকেট তাপস রক্ষিত, অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, ব্র্যান্ডিং কক্সবাজারের সমন্বয়ক ইশতিয়াক আহমেদ জয় ও ভাস্কর্য নির্মাণকারী টিম লিডার কামরুল হাসান সিপন উপস্থিত ছিলেন।

সৈকতে তৈরি করা দুইটি ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে একটি বঙ্গবন্ধুর ফ্রি স্ট্যান্ডিং ভাস্কর্য ও অপরটি রিলিফ ভাস্কর্য। সৈকতে ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীরা এই ভাস্কর্য দেখে বেশ আনন্দিত। প্রায় ৬ ফুট উচ্চতা ও ১৪ ফুট প্রশস্ত এ ভাস্কর্যটি এ যাবৎকালে বাংলাদেশে নির্মিত সবচেয়ে বড় বালুর ভাস্কর্য। ‘জাতির পিতার সম্মান রাখবো মোরা অম্লান’ এই প্রতিপাদ্যে স্থাপিত ভাস্কর্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এদিকে সৈকতের একই স্থানে ১০০ ফুট দৈর্ঘ একটি পদ্মা সেতুও নির্মাণ করা হয়েছে। বালু দিয়েই পদ্না সেতুটি তৈরি করেছেন কক্সবাজারের শিল্পী তানভীর সরওয়ার রানা। গত দুইদিন ধওে শিল্পী তানভীর সরওয়ার রানার নেতৃত্বে কক্সবাজার আর্ট ক্লাবের ৩০ জন সদস্য রাত-দিন পরিশ্রম করে বালু দিয়ে পদ্মা সেতুর আদলে পদ্মা ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন।