প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালী নদীতে পানি কমছে ধীর গতিতে। তবে ওই উপজেলায় রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। ৪০কিলোমিটার সড়ক খেয়ে ফেলেছে বন্যার পানি।
বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালী নদীতে পানি কমছে ধীরগতিতে। ফলে এখনও বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ পানির নিচে। ফলে ওই উপজেলার কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে আবারও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। কিছু কিছু উঁচু এলাকায় আউশ আমনের বীজ বপন করছে কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের ভয়াবহ বন্যায় কৃষকের মেরুদন্ড ভেঙ্গে গেছে। অর্থকরী ফসল পাট, আউশ ধান, মরিচ, শাক সবজি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মেতে উঠেছে।
বুধবার সরজমিনে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া, দিগদাইড় ইউনিয়নের দিগদাইড়, মহিচরণ, চিল্লিপাড়া এলাকায় কৃষকদের নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান, এবারের বন্যায় বুধবার বিকাল পর্যন্ত সোনাতলা পৌরসভা, সোনাতলা সদর, মধুপুর, পাকুল্লা, জোড়গাছা, বালুয়া ও দিগদাইড় ইউনিয়নে পাট ১৫শ’ হেক্টর, আউশ ধান ২ হাজার হেক্টর, বীজতলা ৫২৫ হেক্টর, শাকসবজি ৭০ হেক্টর ও মরিচ ৬ হেক্টর এখনও পানির নিচে রয়েছে।
এ দিকে হাটকরমজা এলাকার ছান্নু মিয়া জানান, এবার তিনি আড়াই বিঘা জমিতে বেগুনের ফসল করেছেন। বন্যার পানিতে বেগুনের গাছ মরে গেছে। দুই মাসে তিনি ১২ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। বন্যায় ক্ষতি না হলে আরও ৭০/৮০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করতেন।
পূর্ব করমজা গ্রামের আব্দুল কদ্দুস, মোঃ সোনা মিয়া জানান, এবার তারা তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে সীমাহীন ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, এবারের বন্যায় উপজেলার ৪০ কিলোমিটার সড়ক লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। প্রাথমিক ভাবে ওই সড়ক গুলো মেরামত ও সংষ্কার করতে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, গতকাল মধুপুর, পাকুল্লা ও সদর ইউনিয়নের ২৪৩৩ পরিবারের মাঝে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান এড. মিনহাদুজ্জামান লীটন উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর আলম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম বুলু, অসীম কুমার জৈন নতুন ও জুলফিকার রহমান শান্ত উপস্থিত ছিলেন।