নোতুন খবর.কম : স্বেচ্ছাসেবক লীগের বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলা কমিটি ভেঙ্গে দেয়াকে গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও অর্থের বিনিময়ে করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের দাবিকৃত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২১/০৭/২০১৯ তারিখ রোজ সোমবার স্বেচ্ছাসেবকলীগ একটি বর্ধিত সভার আয়োজন করে। বগুড়া ১২টি উপজেরার সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এর মতো আমরাও নন্দীগ্রাম উপজেলার সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অংশগ্রহণ করি। সেখানে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সফল করতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভা শেষে সকল উপজেলা ও বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যালয় ত্যাগ করার সময় জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নন্দীগ্রাম উপজেলার নেতৃবৃন্দ ছাড়া সবাইকে চলে যেতে বলেন। এরপর হঠাৎ করেই আমাদের নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দকে বলে নন্দীগ্রাম উপজেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো এবং নতুন কমিটি আজ থেকে দায়িত্ব পালন করবে। এমন কথা শুনে আমরা হতভম্ব হয়ে যাই এবং কমিটি ভাঙার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে আমরা কারো কাছে জবাবদিহী করতে বাধ্য নই।

তিনি বলেন, আপনারা আরো আবগত আছেন যে, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনের পর নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রথমেই আমাদের নন্দীগ্রাম উপজলো কমিটি পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে ভেঙে দেয় যা সম্পূর্ণ অবৈধ, সংগঠন ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ। পত্রিকায় নিউজটা দেখে আমাদের প্রিয় অভিভাবক মরহুম জননেতা আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন জেলার সভাপাতি/সাধারণ সম্পাদককে ডেকে পাঠান এবং তারা সেখানে উপস্থিত হলে মরহুম আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন তাদের বলে সম্মেলনের ১ মাস না যেতেই কমিটি ভাঙা শুরু করলি কেন? তখন এর কোনো সদউত্তর তারা দিতে পারেনি। এ সময় মরহুম আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন তাদের উদ্দেশ্যে বলেন দলীয় বিষয় নিয়ে কখনো পদ-পদবী দেওয়ার নামে এবং নতুন কমিটি করার নামে কোন অর্থনৈতিক লেনদিন করিস না। এতে দলের ক্ষতি হয়। সেই সাথে নন্দীগ্রাম উপজেলার পূর্বের কমিটি বহাল রাখতে নির্দেশ দেন। তখন বাধ্য হয়ে আগের দিন ঘোষিত নতুন কমিটি বাতিল করে পরের দিন পূর্বের কমিটি বহাল রাখায় সাধারণ মানুষের মাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও হাস্যরসের সৃষ্টি করে। কেন না ১ দিন আগেই নন্দীগ্রাম উপজলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নতুন কমিটি গঠন করার সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রচারিত হয়। আবার পরের দিন একই পত্রিকায় নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের পূর্বের কমিটি বহাল রাখার সংবাদ প্রচারিত হয়। এতে করে সংগঠন এর ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুণ্য হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা কমিটি কোন উপজেলা বা উপজেলার সমমর্যাদাপূর্ণ কমিটি পত্রিকায় বিবৃতির মাধ্যমে ভাঙ্গাও যায়না গড়াও যায়না। একমাত্র সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি অথবা সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি গঠন করতে পারে, এক্ষেত্রে সাংগঠনিক নিয়ম না মেনে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে জেলার সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক গঠনতন্ত্র বিরোধী এই জঘন্য কাজটি করলেন। এতে করে অন্যান্য উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দও আতঙ্কে আছেন। কেননা, অর্থের বিনিময়ে কখন কার কমিটি ভেঙ্গে দেবে এটা কেউ জানেনা।

স্বেচ্ছাসেবকলীগের এই নেতা বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন নেতৃত্ব আসায় সকলের মনে নতুন করে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে। উক্ত সম্মেলনের ২য় পর্বে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন করার কথা থাকলেও তা পালন না করে, সাজেদুর রহমান শাহীন ও জুলফিকার রহমান শান্তকে সভাপতি/সাধারন সম্পাদক মনোনীত করা হয়। একাধিক প্রার্থী থাকার পরও কেন কাউন্সিল হলোনা এই বিষয়ে নেতাকর্মীরা তাদের হতাশা ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের মঞ্চে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা ১৪ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক কমিটি গঠনের সুপারিশ করে সাক্ষর করেন। তখন মঞ্চে উপস্থিত আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডঃ মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার নতুন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ঢাকায় এসে তোমাদের কমিটি পাশ করে নিয়ে আসো। এক মাস তো দূরের কথা দুই বছরেও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়। এমতাবস্থায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নিজ দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করলেন এবং অনেককেই তাদের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতিকেও অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এরপর, জেলার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তরিঘরি করে পনের বছরের কিশোর থেকে পঞ্চান্ন বছরের বৃদ্ধকে পর্যন্ত কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়। বিশেষ করে সভাপতির অর্ধেক ও সাধারন সম্পাদকের অর্ধেক সমর্থককে নিয়ে উক্ত কমিটি গঠন হয়েছে। যাদেরকে কখনও স্বেচ্ছাসেবকলীগের কোন মিছিল মিটিংয়ে দেখা যায়নি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মেজবাহ, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর আলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হোসেন আলী, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, পৌর যুগ্ম আহŸায়ক আব্দুল মোমিন, মিলন হোসেন, মাসুদ রানা, নুর মোহাম্মদ, আহসান হাবিব, মাহবুবুর রাহমান, মোসলেম উদ্দীনসহ প্রমূখ।