ডেস্ক :
নভেম্বরে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এতে হেরে গেলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহজে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে যদি হেরে যান তাহলেও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে অস্বীকার করেছেন। ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের এবং এমনকি নিজ দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও নয়।
বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের বুনিয়াদী ভিত্তি শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,“কি ঘটছে তা আমাদের দেখতে হবে” ।
আগামী ৩ নভেম্বর ভোটের আগে মতামত জরিপে জো বাইডেন রিপাবলিকান প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে থাকার ব্যাপারে তিনি আস্থাহীনতা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক কর্মদিবসে নির্বাচন হয় বলে অনেক মানুষ স্বশরীরে ভোট দিতে পারেন না। কাজের সূত্রে দূরে থাকার কারণেও কারো কারো ভোট দিতে সমস্যা হয়। এমন সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সেদেশে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর বিধান রয়েছে। এ বছর করোনা সংকটের কারণে অসংখ্য ভোটার সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে ডাকযোগে বা মেল-ইন ভোটের দাবি জানানো হলেও ট্রাম্প শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করছেন। এমনকি ভোট-জালিয়াতি হতে পারে বলে ডেমোক্র্যাটদের দিকে আঙুলও তুলেছেন তিনি। ডাকযোগের ব্যালট সরিয়ে নিলে সবই শান্তিপূর্ণ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরেরই কোনো প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ তার পরাজিত হওয়ার কোনো কারণই নাই। ডেমোক্র্যাটরা অন্যদের চেয়ে বেশি জানেন যে ডাক ব্যালট নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে।

সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্পের মন্তব্যের ব্যাপারে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশ্ন তুলে বলেন,“আমরা কোন দেশে আছি?” “দেখুন, তিনি অত্যন্ত অযৌক্তিক বিষয় বলেছেন। আমি জানিনা তিনি কি বলতে চেয়েছেন।”
রিপাবলিকনি সিনেটর মিট রমনি বলেছেন, সংবিধানের মূল নীতির ব্যাপারে যে কোন দ্বিধা “অভাবনীয় ও অগ্রহনযোগ্য”।
তিনি এক টুইটে বলেন, “গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, এ ছাড়া যা হয় তা বেলারুশে হচ্ছে।”