ডেস্ক :
বরের বয়স ১০৫, কনের ৮০। ৫০ হাজার ৬৫০ টাকা দেনমোহরে বুধবার রাতে নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের পুকুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ধুমধাম করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ে পড়ানোর আগে দেনমোহর নগদ ৬৫০ টাকা পরিশোধ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন শতবর্ষী এই বর। বর মৃত ঈমান আলীর ছেলে ১০৫ বছর বয়সী আহাদ আলী মন্ডল ওরফে আদি এবং কনে একই গ্রামের সোনা মিয়ার মেয়ে ৮০ বছরের আমেনা বেগম। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর বর-কনে একে অপরের হাত ধরে হাস্যজ্জল মুখে দীর্ঘসময় বসে ছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে।

উভয়ের ঘরেই সন্তান রয়েছে। কিন্তু একাকিত্বের জীবন কাটাতেন তাঁরা। এ থেকে উত্তরণে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবশেষে বেশ ধুমধামের পরিবেশে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব বয়সী নারী-পুরুষ আনন্দ করেন। এই নব দম্পতির দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করেন তারা।

স্থানীয়রা জানায়, শতবর্ষী বর আহাদ আলী মন্ডল ওরফে আদির প্রথম স্ত্রী মারা যান কয়েক বছর আগে। চার পুত্র ও তিন মেয়েসহ নাতি-নাতনি রয়েছেন। কনে আমেনা বেগমও বিধবা।

এদিকে শতবর্ষী বর-কনের বিয়ের খবর এলকায় এখন সবার মুখে মুখে। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ খবরটি বেশ মজা করেই উপস্থাপন করছেন। আবার কেউ কেউ নিন্দুকের সুরে প্রচার করছেন। তবে এসব কানে নিচ্ছেন না শতবর্ষী আহাদ আলী মন্ডল ওরফে আদি।

আহাদ আলী জানান, তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে থাকলেও স্ত্রী না থাকায় বৃদ্ধ বয়সে একাকিত্ব কাটছিল না। এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে তিনি তারই প্রতিবেশী আমেনা বেগমকে বিয়ে করেছেন।

দিঘাপতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার ওমর শরীফ চৌহান জানান, পাত্র আহাদের চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তাঁর নাতি-নাতনি থাকলেও স্ত্রী না থাকার কারণে বৃদ্ধ বয়সে বেশ একাকিত্বের জীবন কাটাতেন আহাদ। পরে তিনি এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।