ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি ও সন্দেহভাজনদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মান করছে চিন। দেশটির উহানে ছয়দিনের এই হাসপাতাল বানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা।

নতুন, নিউমোনিয়া সদৃশ ভাইরাসটিতে দেশটিতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এক হাজার ৯৭৫ জনের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, মারা গেছে ৫৬ জন। এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার শহর উহান থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরটির হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে উৎকণ্ঠিত বাসিন্দাদের অস্বাভাবিক ভিড়; ফার্মেসিগুলোতে দেখা দিয়েছে ওষুধের সংকট।

এরকম পরিস্থিতিতেই চীন উহানে বিশেষায়িত ওই হাসপাতালটি বানানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে; নতুন এ হাসপাতালটি প্রায় এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট হবে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে।

হাসপাতালটি ২৫ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে হবে; খনন কর্মীরা এরই মধ্যে স্থানটিতে পৌঁছে গেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখানো হয়েছে।

সার্স ভাইরাস মোকাবেলায় ২০০৩ সালে চীন বেইজিংয়ে সাত দিনে একটি হাসপাতাল বানিয়েছিল; উহানের নতুন হাসপাতালটি ওই আদলেই হবে।

“এটি আসলে একটি বিশেষায়িত আলাদা হাসপাতাল, যেখানে আক্রান্তদের পাঠানো হবে। নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার সব ব্যবস্থা সেখানে থাকবে,” বলেছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড সোশাল মেডিসিনের প্রভাষক জোয়ান কফম্যান।

“এ ধরনের বিরাট বিরাট প্রকল্প দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার রেকর্ড চীনের আছে,” বলেছেন নিউ ইয়র্কভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্ব স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়ানঝং হুয়াং।

বিবিসি জানায়, ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস মোকাবেলায় চীন সাত দিনের মধ্যে বেইজিংয়ে জিয়াওটাংশান হাসপাতালটি নির্মাণ করেছিল। দ্রুতগতিতে কোনো হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে এটিই রেকর্ড বলে ধারণা করা হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সেবার চার হাজার শ্রমিক দিন-রাত খেটেছিল বলে জানিয়েছে চায়না ডটকম ডট সিএন।

সার্স মহামারি শেষে হাসপাতালটির ব্যবহারও থেমে যায় বলে হুয়াং জানিয়েছেন।