নোতুন খবর.কম :
বুধবার বেলা ১১ টায় সাতমাথায় ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার আহবায়ক দিলরুবা নূরীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির রহমানের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক শাহনিয়াজ খান পাপ্পু, সিপিবি নারী সেল বগুড়া জেলা যুগ্ম আহবায়ক যুথী রানী দাস, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা সংগঠক নিয়তি সরকার নিতু, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সংগাঠনিক সম্পাদক সনি কর্মকার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বগুড়া জেলা শাখার সংগঠক রাধা রানী বর্মন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহান, সমাজতান্ত্রি ছাত্র ফ্রন্ট আনন্দ কুমার প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি চলছে। ফলে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধ করেও ধর্ষক ক্ষমতা ও টাকার দাপটে পার পেয়ে যায়। বর্তমান সরকার ধর্ষকদের লালন করে যাচ্ছে। ধর্ষক বিরোধী লংমার্চে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ বাহিনীর হামলার মধ্য দিয়ে সরকার প্রমাণ করলো যে, ধর্ষকের বিচার হোক তারা চায় না এবং তারা ধর্ষকের আশ্রয়দাতা- পৃষ্ঠপোষক। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে লংমার্চে হামলাকারীদের গ্রেফতার, বিচার করাসহ ৯দফা দাবি বাস্তবায়নের আহবান জানান।
৯দফা দাবি-
১. সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২. পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৩. হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডও সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।
৪. ধর্মীয়সহ সকল ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রেণে বিটিসিএলের কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
৫. তদন্তকালীন সময় ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সকল মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।
৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।
৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।
৯. গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।